বালাপুর জমিদার বাড়ি | ভ্রমণকাল

বালাপুর জমিদার বাড়ি

balapur-zamindar-bari
নবীন চন্দ্র সাহা জমিদার বাড়িটি নরসিংদী সদর উপজেলার পাইকচর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে বালাপুর গ্রামে অবস্থিত। জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা ৩২০ বিঘা জমির উপর এই বালাপুর জমিদার বাড়ি টি নির্মাণ করেন। এই জমিদার বাড়ির পাশেই মেঘনা ঘাট, এই ঘাটকে কেন্দ্র করেই নবীন চন্দ্র সাহা বাড়ি তৈরি করেছিলেন। শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়িটির নির্মাণশৈলী দারুণ দৃষ্টিনন্দন ও চমৎকার। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মাঝে সময় কাটানোর জন্য বালাপুর জমিদার বাড়ি একটি চমৎকার জায়গা। আপনি ঐতিহ্যের ছোঁয়ার সাথে পাবেন মেঘনা নদীর অবারিত প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা ও শোভা।

বালাপুর জমিদার বাড়ি ১০৩টি কক্ষ বিশিষ্ট একটি বড় বাড়ি। এখানে আপনি উত্তর পাশে একটি একতলা ভবন, দক্ষিণ পাশে একটি দ্বিতল ভবন, পূর্ব পাশে একটি তিনতলা ভবন এবং পশ্চিম পাশে একটি দ্বিতল ভবন দেখতে পাবেন। মেঝেতে মোজাইক এবং টাইলসের ব্যবহার থেকে বোঝা যায় সেই সময় বাড়িটি কতটা বিলাসবহুল ছিল। দরজা এবং জানালা ফুল এবং পাতা সহ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর কারুকাজ দিয়ে সজ্জিত। এই জমিদার বাড়ির প্রতিটি ভবনই মনোমুগ্ধকর কারুকার্য শোভিত।

জমিদার বাড়ির পশ্চিমে রয়েছে তিনটি শান বাঁধানো পুকুর ঘাট। সুন্দর কারুকাজ করা দুর্গা পূজা মন্ডপ এই জমিদারবাড়ির আভিজাত্য ও জাঁকজমক দেখায়। বাড়ির দুটি মন্দির আজও অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে সময় অতিথিদের থাকার জন্য আরেকটি সুন্দর ভবন ছিল। এই জমিদার বাড়ির পাশে, আপনি ১৯১৩ সালে নির্মিত ঐতিহ্যবাহী বালাপুর নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় দেখতে পাবেন। এই বিদ্যালয়ের সামনে একটি বড় খেলার মাঠ রয়েছে। বাড়ি থেকে মেঘনা নদী কিছুটা দূরে। জনশ্রুতি আছে, ভারতের কলকাতা থেকে একটি জাহাজ একবার এই ঘাটে খালাস করেছিল। তাই জায়গাটিকে এখন স্টিমারঘাট বলা হয়।

এই জমিদার বাড়ি ঘুরা শেষ হলে ১০-১৫ মিনিট হাটার পর পেয়ে যাবেন মেঘনা বাজার। সেখান থেকে মিনিট পাঁচেক হাঁটলেই পেয়ে যাবেন বিশাল মেঘনা নদী। চাইলে নৌকা নিয়েও ঘুরে বেড়াতে পারেন মেঘনার বুকে।

যারা ব্যস্ততার কারণে দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন না তারা ছুটির দিনে একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার খুব কাছেই নরসিংদীর বালাপুর জমিদার বাড়ি থেকে। পরিবার বন্ধুবান্ধবসহ কাটিয়ে আসতে পারেন একটি দিন প্রাচীন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে। শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই জমিদার বাড়িটির কারুকার্যময় ও নান্দনিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

বালাপুর জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন

ঢাকার গুলিস্তান কেন্দ্রীয় মসজিদ এর সামনে হতে মেঘালয় বাসে করে নরসিংদীর মাধবদী যেতে হবে প্রথমে, ভাড়া পরবে ৯০ টাকা। লোকাল বাসে চড়ে গেলে মাধবদী যেতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা লাগবে। মাধবদী বাস স্ট্যান্ড নেমে রিকশা ভাড়া করে মাধবদী গরুরহাট সিএনজি স্টেশন যেতে হবে। গরুরহাট সিএনজি স্টেশন থেকে বালাপুর জমিদার বাড়ি যাওয়ার সিএনজি পাওয়া যায়, জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সিএনজি স্টেশন থেকে বালাপুরের সিএনজিতে উঠে নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নামতে হবে। সেখান থেকে ২-৩ মিনিট হাঁটলেই পেয়ে যাবেন ঐতিহ্যবাহী বালাপুর জমিদার বাড়ি।

আরো দেখুন

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, ড্রিম হলিডে পার্ক, উয়ারী বটেশ্বর
দৃষ্টি আকর্ষণ: আমাদের পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে এবং এইসব পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। আর ভ্রমনে গেলে কোথাও ময়লা ফেলবেন না। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
 আমাদের টিম সবসময় চেষ্টা করে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা বানান ভুল হয়ে থাকে বা ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে অথবা আপনার কোন ভ্রমণ গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করতে চান তাহলে Comments করে জানান অথবা আমাদের কে ''আপনার মতামত'' পেজ থেকে মেইল করুন।