কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত | ভ্রমণকাল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

coxsbazar-sea-beach
বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত জেলা কক্সবাজার, এই জেলাতেই রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত প্রাকৃতিক নিদর্শন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন এই সমুদ্রতট পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সারাবিশ্বের ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে বাংলাদেশকে তুলেছে অনন্য মর্যাদায়। শুধু ভৌগলিক বিশেষত্বই নয় কক্সবাজারের মত অনুপম প্রাকৃতিক বৈচিত্র বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায়না।

কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বিখ্যাত শহর। এখানে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার শহর থেকে শুরু হয়ে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার। সুদীর্ঘ এই বেলাভূমি অঞ্চলে নানান রকমের বৈচিত্র দেখা যায়। বঙ্গোপসাগরের অপার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কক্সবাজার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় সৈকত। এই সৈকতের পারে রয়েছে পাহাড় আর ঝাউবনের পসরা।

কক্সবাজার এর ইতিহাস

অতীতে কক্সবাজার পানোয়া নামে পরিচিত ছিল। পানোয় অর্থ হলুদ ফুল। এছাড়া এই অঞ্চলের আরেকটি নাম ছিল পালংকি। নবম শতাব্দীর শুরু থেকে ১৬১৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার সহ চট্টগ্রামের একটি বিশাল অংশ আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে মুঘলরা এই অঞ্চলের কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন।

মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পত্র শাহ সুজা পাহাড়ি রাস্তা ধরে আরাকানে যাওয়ার পথে কক্সবাজারের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হন। তার যাত্রা বহরে থাকা ১০০০ পালংকি সহ কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা নামক জায়গায় যাত্রাবিরতি করেন।

দুলহাজরা অর্থই হলো হাজার পালংকি। মোগলদের পরে পর্তুগিজরা এবং তারপর ব্রিটিশরা কক্সবাজারের দখল নেয়। এই এলাকার নাম পালংকি থেকে কক্সবাজার হওয়ার পেছনে ও ব্রিটিশদের হাতে রয়েছে। ১৭৭৩ সালের পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্যাপটেন হিরাম কক্স নামের একজন কর্মকর্তাকে পালংকির মহাপরিচালক নিযুক্ত করেন। ক্যাপ্টেন কক্স আরাকান এবং রাখাইনদের মধ্যকার হাজার বছরের পুরনো সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জনাব কক্স মারা যাবার পর তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৭৯৯ সালে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর নাম রাখা হয় কক্স সাহেবের বাজার। সেখান থেকেই এলাকাটি বড় হতে থাকে। ১৮৫৪ সালে এখানে একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৬৯ সালে এলাকাটি পৌরসভায় উন্নীত হয়, আর তখন থেকেই এই অঞ্চলটি কক্সবাজার নামে পরিচিতি লাভ করে ।

প্রতিবছর প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজারে ঘুরতে আসে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা এই সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে বেড়ানোর প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়েছেন। পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এই সৈকতের বিশালতা। এত দীর্ঘ সৈকতের সকল অংশেই পর্যটকদের আনাগোনা সমান নয়। কক্সবাজার শহরের মধ্যে থাকা লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্ট এবং ডলফিন পয়েন্ট তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়। এসব জনবহুল এলাকায় কোলাহল পছন্দ না হলে সাগরের তীর ধরে আপনি আনমনে হেঁটে যেতে পারবেন মাইলের পর মাইল।

যেকোন ছুটির দিনে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। কক্সবাজার বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অন্যতম দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। সে কারণে এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকাটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হলেও বিপুল জনসংখ্যার এইদেশের ভ্রমন পিয়াসিদের জন্য এত বিস্তৃত পরিসরে যেন কম পড়ে যায়।

কক্সবাজার সৈকত একটি মায়াবী রূপময় সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন প্রতিক্ষণ এর রূপ পরিবর্তিত হয় গ্রীষ্ম বর্ষা শীত বা বসন্তের মতো প্রতিটি ঋতুতে সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য যেন ভিন্ন। এছাড়া সকালে সাগরের রূপ একরকম তো বিকালে তার চেহারা সম্পূর্ণ অন্যরকম। ভোরবেলা সাগরের শান্ত স্নিগ্ধ রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। কক্সবাজারে যেহেতু সারাদিন প্রচুর পর্যটক সমাগম থাকে তাই এখানকার সৈকতের একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে ভোর বেলার বিকল্প নেই। কক্সবাজার থেকে সূর্যোদয় খুব একটা ভালো করে উপভোগ করা যায় না। কারণ এখানকার অধিকাংশ সৈকতেই পশ্চিমমুখী তবে সূর্যাস্তে কক্সবাজারের দৃশ্য দেখার মত। এখানকার সকল বৈচিত্রের মধ্যে সবচেয়ে উপভোগ্য বিষয় হলো কক্সবাজারের অসাধারণ সূর্যাস্ত। কক্সবাজারের একদিনের সূর্যাস্তের সাথে অন্যদিনের সূর্যাস্তের মনোরম আভায় কোন মিল পাবেন না।

এছাড়া গোধূলি বেলার সৈকতের আবহ আর রাতের বেলার অবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। বিচিত্র এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই কক্সবাজারে ঘুরতে আসা দেশি-বিদেশি প্রতিটি পর্যটক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সাগর উপভোগ করেন।

যদিও বিদেশে পর্যটকদের আনাগোনা ইদানিং তেমন চোখে পড়ে না তার অন্যতম কারণ হলো বিখ্যাত এই প্রাকৃতিক অঞ্চল কে ঘিরে পর্যটনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা খুব একটা গড়ে ওঠেনি। তাই কক্সবাজার সৈকত বিশ্ব বিখ্যাত হলেও এখানে ঘুরতে আসা অধিকাংশ পর্যটক এই হলো বাংলাদেশী ভ্রমণপিপাসু জনগণ।

বিশ্বের প্রাকৃতিক নতুন সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে প্রতিযোগিতায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি কয়েক বার শীর্ষস্থানে ছিল। শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য প্রচার-প্রচারণা কম ছিল বলে অনেকেই মনে করে থাকেন এর ফলে মায়াবী এই সমুদ্র সৈকতটি শীর্ষস্থান তো দূরের কথা কোন স্থানই অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তাই বলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মর্যাদা কমেনি একটুও বরং কক্সবাজার রয়েছে তার স্বমহিমায় ভাস্বর।

কক্সবাজার সৈকতে বঙ্গোপসাগরের সৌন্দয্য উপভোগের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। অধিকাংশ দর্শনার্থী সৈকতে গিয়েই সাগরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যারা সমুদ্রের গভীরে যেতে চান না তাদের জন্য রয়েছে ওয়াটার বাইক, বীচ বাইক বা ঘোড়ায় চড়ে সমুদ্র উপভোগের সুযোগ। অনেকে আবার ছাতার নীচে শুয়ে-বসে আয়েশী অবকাশ যাপন করেন। ছলনাময়ী ও মায়াবী সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নামা পর্যটকদের অনেকেই বিভিন্ন সময় বিপদে ও পড়ে, এমনকি বেশ কয়েকবার মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য কক্সবাজারে লাইফগার্ড নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লাইফ গার্ড সদস্যরা সমুদ্রস্নানে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি করেন। তবে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

পর্যটন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাগরে হাঁটু পানির নিচে নামা ঠিক নয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পর্যটকরা সে নির্দেশনা মানে না এছাড়া সাগরের পানিতে নামার আগে জোয়ার ও ভাটার সময় জেনে নেয়া অত্যন্ত জরুরী।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত মেরিন ড্রাইভ অঞ্চলের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার এই সড়কে চলাচলের সময় যে কোনো যানবাহন থেকেই প্রায় পুরোটা রাস্তা জুড়ে সাগর দেখতে দেখতে যাওয়া যায়। মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে যাবার পথে চোখে পড়বে ছোটখাটো বেশ কয়েকটি ঝরনা। কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিমছড়ি সমুদ্র সৈকত।

পাহাড় আর সাগরের অপূর্ব মিতালীর জন্য এই জায়গাটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কক্সবাজার থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আকর্ষণীয় ইনানী সমুদ্র সৈকত। ইনানী সৈকতের প্রচুর প্রবাল পাথর দেখতে পাওয়া যায়। এই অংশটি অনেকটা সেন্টমার্টিনের সৈকতের সাথে মিল রয়েছে। ইনানীতে কক্সবাজারের তুলনায় পর্যটক এর চাপ কম থাকায় নিরিবিলি নিজের মতো কিছু সময় কাটানো যায়।

দিনের বেলা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে দর্শনার্থীরা মেতে থাকলেও রাতের বেলা সৈকতে করার মত তেমন কোনো কাজ থাকে না। সে কারণে রাতে সৈকতের তীরে গড়ে উঠা মার্কেট গুলোতে কেনাবেচা জমে উঠে।

নারীদের সাজসজ্জা অলংকার, গৃহস্থালী সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ এবং নানান রকমের খাদ্য সামগ্রী এসব বাজারের প্রধান পণ্য। অধিকাংশ পণ্য পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে আসে তবে থাইল্যান্ড চীন এবং ভারতের পণ্য রয়েছে । শামুক ঝিনুক এর তৈরি বিভিন্ন শোপিস এবং ফুচকা চটপটি ও ফাস্টফুডের দোকান গুলোতে রাতের বেলায় বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়।

এছাড়া দিনে-রাতে সৈকতের অনেক ধরনের পণ্য ফেরি করে বিক্রি করা হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কি অপরূপ সাজে সজ্জিত করার জন্য বাংলাদেশের পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় সিবীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কয়েকটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সমুদ্রসৈকতে বেশকিছু চেঞ্জিং রুম বাথরুম এবং টয়লেট স্থাপনের কারণে পর্যটকদের অনেক সুবিধা হয়েছে।

মাত্র কয়েক বছর আগেও এ ধরনের কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার সৈকতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কিছুটা উন্নতি চোখে পড়ে। সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য টুরিস্ট পুলিশ এর কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।

অতীতে সৈকতের ছিনতাইসহ পর্যটকদের নানা ধরনের হয়রানির কবলে পড়তে হতো। কিন্তু টুরিস্ট পুলিশের তৎপরতার কারণে সে রকম হয়রানির ঘটনা এখন নেই বললেই চলে। এমনকি মধ্যরাতেও পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে সৈকতে বিচরণ করতে পারে।

কক্সবাজারের সাগর পারে হোটেল, মোটেল, জোন, সৈকত পারা এবং মেরিন ড্রাইভ ধরে বহু হোটেল রয়েছে। সাধারণ মানের হোটেল থেকে পাঁচ তারকা মানের হোটেল রাত্রিযাপনের জন্য ৫০০ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার রুম পাওয়া যায়। পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল রিসোটে রাত্রী যাপনের জন্য জায়গা পাওয়াটা খুব কঠিন। সাধারণ মানের হোটেল গুলো তখন চড়া দামে ভাড়া করতে হয়।

কক্সবাজার বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর। প্রায় হাজারেরও বেশি জেলে নৌকা কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাগরে মাছ ধরতে যায়। অধিকাংশ জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরে আনার পর কক্সবাজারের ফিশারি ঘাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।

তবে কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় মৎস শিকারে পর জেলেদের মাছ ভাগ করার দশ্য আপনার চোখে পড়তে পারে। পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায় না সেজন্য আপনাকে সৈকতের কোন নিরিবিলি এলাকায় যেতে হবে। যে দিকটা দর্শনার্থীরা সচরাচর যায় না। বাংলাদেশে যে সাবমেরিন ক্যাবলের সাহায্যে সমগ্র বিশ্বের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়েছে তার ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে অবস্থিত।

রোহিঙ্গা সংকটের পর থেকে জাতিসংঘের বহু অঙ্গসংগঠন সহ-আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাংলাদেশের তাদের কাজের পরিধি বিস্তৃত করেছে। কক্সবাজারের মোটেল রোডে রেয়েছে বেশকিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কার্যালয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউএনএইচসিআর বা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, ইউনিসেফের জাতিসংঘ শিশু তহবিল, শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় ইত্যাদি।

কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারের হোটেলগুলোর বর্তমান ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১,৫০,০০০ জন। তাই অফ সিজনে বুকিং না দিয়ে গেলেও হোটেল রুম পাবার নিশ্চয়তা থাকে কিন্তু ডিসেম্বর ১৫ থেকে জানুয়ারী ১৫ তারিখ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো হবে। সাধারণত দামানুসারে কক্সবাজার হোটেল/মোটেল/রিসোর্ট গুলোকে তিন ভাবে ভাগ করা যায়।

৬,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে
মারমেইড বিচ রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট, ওশেন প্যারাডাইজ, লং বীচ, কক্স টুডে, হেরিটেজ ইত্যাদি।

৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে
হোটেল সী ক্রাউন, সী প্যালেস, সী গাল, কোরাল রীফ, নিটোল রিসোর্ট, আইল্যান্ডিয়া, বীচ ভিউ, ইউনি রিসোর্ট ইত্যাদি।

৮০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে
উর্মি গেস্ট হাউজ, কোরাল রীফ, ইকরা বীচ রিসোর্ট, অভিসার, মিডিয়া ইন, কল্লোল, সেন্টমার্টিন রিসোর্ট, হানিমুন রিসোর্ট, নীলিমা রিসোর্ট ইত্যাদি।

উপরে উল্লেখিত মূল্যের চেয়েও কমে হোটেল পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে একটু আগে থেকেই খোজ খবর নিতে হবে। অফ সিজনে হোটেল ভাড়া সাধারণত অর্ধেকেরও কম থাকে। সময় থাকলে কক্সবাজার নেমেই একটু দরদাম করে হোটেল খুজে নিলেই ভালো হয়। কম দামে হোটেল বা রিসোর্টে থাকতে চাইলে আপনি কলাতলি বীচ থেকে একটু দুরে লং বিচ হোটেলের সামনে উল্টোপাশের গলির ভিতরের হোটেল গুলোতে খোজ নিতে পারেন। বিচ ও মেইন রোড থেকে হোটেল দূরে হলে থাকার ভাড়া সাধারনত কম হয়ে থাকে। প্রয়োজনে হোটেলের ফেইবুক পেইজ বা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়ক, রেল এবং আকাশপথে যাওয়া যায় কক্সবাজার। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার বাসগুলোর মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম মাসিডিজ বেঞ্জ, গ্রীন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস. আলম পরিবহন, মডাণ লাইন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শ্রেণী ভেদে বাস গুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন হতে সোনার বাংলা, সুবণ এক্সপেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোমূলী, চট্টগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এরপর চট্টগামের নতন ব্রিজ এলাকা অথবা দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে এস. আলম, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরন ও মানের বাস পাবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা।

দীর্ঘ সড়ক পথের ক্লান্তি এড়াতে অনেকে আবার আকাশপথেও যেতে চান। দেশীয় বিমান সংস্থা গুলোর বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ঢাকা কক্সবাজার এর মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে। সে ক্ষেত্রে মাত্র ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া যায়। বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা সহ বেশ কিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া আকাশপথে চট্টগ্রাম এসে সড়ক পথে উপরে উল্লেখিত উপায়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন।

ভ্রমণকালে পরামর্শ

⦿ যে কোন সমস্যায় টুরিস্ট পুলিশের সহযোগিতা নিন। হট লাইন +8801769-690740
⦿ কম খরচে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্যে অফ সিজনে বেড়াতে যান।
⦿ যে কোন কিছু কেনা ও যাতায়াতের ভাড়ার ক্ষেত্র ঠিকমত দরদাম করুন।
⦿ কোন রেস্টুরেন্টে কিছু খাবার আগে দাম জিজ্ঞেস করুন।
⦿ হোটেল ঠিক করার আগে হোটেল সম্পকে ভালো করে জেনে নিন।
⦿ জোয়ার-ভাটার সময় মেনে সাগরে নামুন।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজারে বেড়াতে গেলে শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, ঘুরে দেখবেন আশে পাশের আরোও কিছু দর্শনীয় স্থান। আপনার সময় ও সুবিধা অনুযায়ী আগেই পরিকল্পনা করে নিতে পারেন কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন। আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান গুলো হলো-
হিমছড়ি, ইনানী সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী, রামু বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, সেন্টমার্টিন
দৃষ্টি আকর্ষণ: আমাদের পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে এবং এইসব পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। আর ভ্রমনে গেলে কোথাও ময়লা ফেলবেন না। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।