রোজ গার্ডেনে নেয়া হচ্ছে নগর ভবনের জাদুঘর | ভ্রমণকাল

রোজ গার্ডেনে নেয়া হচ্ছে নগর ভবনের জাদুঘর

rose-garden-will-be-mhaka-metropolitan-museum
রোজ গার্ডেন সাজবে নতুন রূপে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর সৌন্দর্যবর্ধনে সংস্কার কাজ করতে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর, শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় জাদুঘরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঢাকা ওয়াসাও এর অবকাঠামো সংস্কারে কাজ করবে বলে জানা গেছে। এই প্রকল্পে নগর ভবনের ঢাকা নগর জাদুঘরও স্থানান্তর হবে রোজগার্ডেনেএ বিষয়ে প্রকল্পের ডিপিডি জাতীয় জাদুঘরের কিপার ড. বিজয় কৃষ্ণ বণিক বলেন, খুব শিগগিরই কাজ শুরু করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটি সংস্থা আলাদাভাবে এর বিভিন্ন অংশের কাজ করবে। জাতীয় জাদুঘর নগর ভবনে অবস্থিত ঢাকা নগর জাদুঘর রোজ গার্ডেনে স্থানান্তরে কাজ করবে। আশা করছি আগামী বছরের ডিসেম্বরের দিকে এর সংস্কার কাজ শেষ হবে।

জানা গেছে, রোজ গার্ডেনের মূল ভবনের গুনগত মান সংরক্ষণ করে আগের রূপে ফিরিয়ে আনবে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের প্রাচীরবেষ্টিত এই মঞ্জিলের উচ্চতা প্রায় পঁয়তাল্লিশ ফুট। ভবনের মূল বারান্দার সঙ্গে রয়েছে অর্ধচন্দ্রাকৃতির ব্যালকনি। এর অবস্থান প্রবেশপথের তিনটি খিলানের ওপরে। ভবনের বিভিন্ন অংশে কাঠ, রঙিন কাচ ও লোহার সমন্বয়ে তৈরি এবং সেগুলো জটিল জ্যামিতিক নকশা, লতাপাতা ও বিভিন্ন প্রাণীর সজ্জায় অলংকৃত। মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি কামরা আর একটি বড় নাচঘর আছে। নিচতলায় আছে আটটি কামরা।

এছাড়া রোজ গার্ডেনের মালিক যে তিনতলা ভবনটিতে বাস করতেন সেখানেই স্থানান্তর করা হচ্ছে ঢাকা নগর জাদুঘর। আর এটি জাতীয় জাদুঘর এর তথ্যবধানে হবে। বর্তমানে এই ভবনটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বেঙ্গল স্টুডিওকে সংস্কার করে একটি আধুনিক ফিল্ম স্টুডিওতে রূপান্তরের কাজও রয়েছে এই প্রকল্পের মধ্যে। আর এটির কাজ করবেন শিল্পকলা একাডেমি। নির্ধারিত ফি দিয়ে টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা রোজ গার্ডেনে প্রবেশ করতে পারবেন।

এছাড়া এখানে রয়েছে একটি বড় পুকুর। পুকুরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি একটি করে বাঁধানো পাকা ঘাট আছে। প্রকল্পের আওতায় এই পুকুরও সংস্কার করা হবে। আর এটি করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এছাড়া বাউন্ডারিও করা হবে। সুয়ারেজ লাইন করবে ঢাকা ওয়াসা।

রোজ গার্ডেন প্রাসাদ সংক্ষেপে রোজ গার্ডেন নামে পরিচিত। এটি একটি ঐতিহাসিক বাগানবাড়ি, যা ঢাকার টিকাটুলি এলাকায় কেএম দাস লেনে অবস্থিত। ১৯৩১ সালের দিকে ঋষিকেশ দাস নামের এক ব্যবসায়ী ২২ বিঘা জমির ওপর একটি দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ভবনের বাগানে গোলাপের প্রাচুর্য থাকায় বাড়ির নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’। অভিনব নির্মাণশৈলীর কারণে এটি হয়ে ওঠে ঢাকার অন্যতম মনোরম ভবন। ঋষিকেশ দাস ১৯৩৬ সালের দিকে ব্যবসায়ী খান বাহাদুর কাজী আবদুর রশীদের কাছে বাড়িসহ বাগানটি বিক্রি করে দেন। এরপর কাজী আবদুর রশীদ নিজের নামে এই বাড়ির নামকরণ করেন ‘রশীদ মঞ্জিল’। কিন্তু ‘রোজ গার্ডেন’ নামটি মানুষের মুখে মুখে রয়েই যায়।

কাজী আবদুর রশীদ মারা যান ১৯৪৪ সালে। এরপর রোজ গার্ডেনের মালিকানা পান তার বড় ছেলে কাজী মোহাম্মদ বশীর (হুমায়ুন সাহেব)। এ কারণে সেসময় ভবনটি ‘হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি’ হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে বেঙ্গল স্টুডিও এবং মোশন পিকচার্স লিমিটেড রোজ গার্ডেন প্যালেসের ইজারা নেয়। হারানো দিন নামের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছিল এই বাড়িতেই।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান আওয়ামী লীগ) গঠন হয়। যার কারণে রোজ গার্ডেন হয়ে উঠে ইতিহাসের অংশ। ২০১৮ সালে ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। আর এ কারণে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সৌন্দর্য ফেরাতে সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আগে ১৯৮৯ সালে প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত এলাকা (ভবন) ঘোষণা করে। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে রোজ গার্ডেনে হবে ঢাকা নগর জাদুঘর।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের পাঁচতলায় অবস্থিত ঢাকা নগর জাদুঘর। মুনতাসীর মামুন এবং হাশেম খানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৮৭ সালের ২০ জুন পুরান ঢাকার পাঁচ ভাই লেনের একটি বাড়িতে জাদুঘরটির জন্ম। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে তখনকার মেয়র হানিফের আগ্রহে সেটি নগর ভবনে স্থানান্তরিত হয়। একই বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন। উদ্দেশ্য ছিল, ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষকে জানানো। কিন্তু নগর ভবনের ভেতরে জাদুঘরটি হওয়ায় সেখানে আশানুরূপ দর্শনার্থী উপস্থিত হয়নি। তাছাড়া জাদুঘরটির তথ্যও সেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেনি।

যা আছে নগর জাদুঘরে

ঢাকা নগর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ঢাকা নগরীর স্মৃতিসংক্রান্ত জানা-অজানা নানা বিষয়। এখানে রয়েছে ঢাকার ইতিহাসসংবলিত ১০১টি দুর্লভ আলোকচিত্র। এছাড়া ঢাকার প্রথম ছাপাখানা ও নবাবি আমলের হুক্কা, উনিশ শতকে ঢাকার নবাবদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, মোগল আমলের বিভিন্ন দলিল, ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম ইংরেজি সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ঢাকা নিউজের মুদ্রণযন্ত্রসহ বহু কিছু।
দৃষ্টি আকর্ষণ: আমাদের পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে এবং এইসব পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। আর ভ্রমনে গেলে কোথাও ময়লা ফেলবেন না। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।